পুষ্টিগুণে ভরপুর কলা। এনার্জি বাড়াতে নাস্তায় চমৎকার একটি খাবার হিসেবে প্রিয় কলা। পুষ্টিগুণে ভরপুর কলায় থাকা মিনারেল, ভিটামিন আর ফাইবার শরীরের জন্য খুব উপকারী। এছাড়া এই ফলটিতে রয়েছে প্রটুর পরিমাণে পটাশিয়াম। একটি মাঝারি মাপের কলা থেকে শরীরে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম প্রবেশ করে। যা ভালো রাখে হৃদযন্ত্র। তাই প্রতিদিন অবশ্যই একটি করে কলা খান।

খুব বেশি ওজন কমে গেলে বা শরীর দূর্বল হয়ে পড়লে চিকিৎসকরা কলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কলা মিষ্টি বলে ভাববেন না এটি খেলে রক্তে সুগারের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। কলার জিআই ভ্যালু খুবই কম। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরাও নিশ্চিন্তে কলা খেতে পারেন।
কলায় লেগে থাকা সুতার মতো একটি অংশ থাকে। যা অনেকেই এটিকে কলার খোসার অংশ মনে করেন। তাই কলার খোসা ছাড়ানোর পর কলায় লেগে থাকা সুতার মতো অংশগুলো ছাড়িয়ে তারপর কলা খেয়ে থাকেন।
কলায় লেগে থাকা সুতার মতো অংশটি মূলত একটি টিস্যু, যার নাম ফ্লোয়েম বান্ডেল। খোসা ছাড়ানোর পর কলায় ফ্লোয়েম বান্ডেল লেগে থাকতে দেখা যায়। এই ফ্লোম বান্ডেলগুলো খেতে সুস্বাদু না হলেও, খাওয়াটা আসলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ফেলে দিয়ে কলা খাওয়াটা আপনার উচিত হবে না- এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউট্রিশন রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. নিকোলাস ডি গিলিট।হাফিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি।
ড. গিলিট বলেন, যদিও আমরা নির্দিষ্টভাবে ফ্লোয়েম বান্ডেল নিয়ে গবেষণা করিনি, তবে সম্ভবত এর পুষ্টিগুণের মধ্যে পার্থক্য থাকবে। যেহেতু এগুলো একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য তৈরি। কলার তুলনায় ভিন্ন পুষ্টিগুণ এতে রয়েছে বলে আশা করা যায়।
ফ্লোয়েম টিস্যুর কাজের দিকে তাকিয়েই এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ধারণা করা যায়। ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের দুই ধরনের পরিবহন টিস্যুর একটি, যা সকল উদ্ভিদের মধ্যেই রয়েছে। পুষ্টি এবং অন্যান্য উপাদান পুরো উদ্ভিদে পরিবহন করে এই টিস্যু। কলার মধ্যে ফ্লোয়েম থাকার কারণ হচ্ছে, এটি পুষ্টিগুলো পুরো কলায় ছড়িয়ে দেয়, যা কলার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
ড. গিলিটের মতামত, কলার ফ্লোয়েম বান্ডেলগুলো নিশ্চিন্তে খাওয়া যেতে পারে এবং ফলের মূল অংশ হিসেবে এটিও পুষ্টিকর। এমনকি, সম্ভবত পুরো কলার তুলনায় এর ফ্লোয়েম বান্ডেলে অনেক বেশি ও বিভিন্ন ধরনের ফাইবার রয়েছে। আর যেকোনো ফাইবার মানেই স্বাস্থ্যকর।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, ‘সাধারণত ফলের সব অংশই পুষ্টিকর। আপেল, নাশপাতি অন্যান্য ফলগুলো খোসা সহ খাওয়া হয়ে থাকে। ফ্লোয়েম বান্ডেল তো অবশ্যই, এমনকি চাইলে খোসাসহ কলা খাওয়া যেতে পারে। বেস্বাদ হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণায় কলার খোসা ক্ষতিকারক বলে প্রমাণিত হয়নি। তবে, কলার খোসা খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন না ডা. গিলিট।
সবুজ পত্র সবুজের সমারোহে বাংলাদেশ