
কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus heterophyllus এবং ইংরেজিতে Jackfruit । কাঁঠাল বাংলাদেশে জন্মানো এমন একটি ফল যার প্রতিটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ। কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা ।
মানব দেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান যেমন থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রনসহ বিভিন্ন প্রকারের পুষ্টি উপাদান। এছাড়া আমিষ, শর্করা এবং বিভিন্ন রকম ভিটামিনের ভাণ্ডার হচ্ছে এই কাঁঠাল।
প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে খাদ্য-আঁশ থাকে দুই গ্রাম, শর্করা ২৪ গ্রাম, চর্বি দশমিক ৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ২৯৭ আইইউ ও ভিটামিন-সি ৬ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম।
কাঁঠাল কাঁচা, পাকা, খোসা, বীজ, শিকড় সব ভাবেই খাওয়া যায় এবং প্রতিটি স্তরই পুষ্টির চমৎকার উৎস। সব অবস্থারই সংক্ষিপ্ত আকারে উপকারিতাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি:
কাঁচা ও পাকা কাঁঠালের উপকারিতা:
● কাঁঠাল ফাইবারসমৃদ্ধ ফল হওয়ায় হজমশক্তি বাড়ায়, পেট পরিষ্কার রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
● টেনশন, নার্ভাসনেস এবং বদ হজম কমাতে সাহায্য করে
● কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন, যা চোখ ভালো রাখে।
● কাঁঠালে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে ও বলিরেখাও কমে। কাঁঠাল তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করবে। মুখে বলিরেখা পড়তে বাধা দেয়। এটি ত্বকের জন্য ভালো। এর মধ্যকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ সৃষ্টিকারী মুক্ত উপাদানের (ফ্রি র্যাডিক্যালস) এর বিরুদ্ধে লড়াই করে।
● এতে বিদ্যমান ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস আলসার, পাইলস ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ ও বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।
● কাঁঠালে কোন ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নেই এবং ক্ষতিকারক ফ্যাটের পরিমাণ কম হওয়ায় ওজন বাড়ার খুব একটা আশঙ্কা থাকে না
● এতে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সকে ঠিক রাখে, যা উচ্চরক্তচাপ ও হার্টও ভালো রাখে।
● কাঁঠালে আয়রন থাকে, যা রক্তে লোহিতকণিকার পরিমাণ বাড়ায়। রক্তাল্পতায় রোগীদের জন্য কাঁঠাল খুবই উপকারী যা দেহের রক্তস্বল্পতা দূর করে।
● এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, চুল দাঁত ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে । এ ছাড়া ক্যান্সার ও টিউমারের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
● কাঁঠালে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো উপাদান আছে যা হাড় গঠনে এবং শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।
● দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
● এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ ও খনিজ উপাদান যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
● কাঁঠালে থাকা ভিটামিন বি-৬ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
কাঁঠালের শিকড়ের উপকারিতা:
কাঁঠালের শিকড় হাঁপানি নিরাময় করতে সাহায্য করে। যাদের হাঁপানি সমস্যা রয়েছে তারা কাঁঠালের শিকর সিদ্ধ করে তা গ্রহণ করলে এর প্রকোপ কমাতে সহায়তা করে।
● জ্বর এবং ডায়রিয়া নিরাময়ে কাঁঠালের শিকড় খুব ভালো উপকার করে।
● এটি চর্ম রোগ সমস্যার সমাধানে খুবই কার্যকারী ।
কাঁঠালের বিচির উপকারিতা:
● কাঁঠালের বিচিতে প্রতি ১০০ গ্রামে শক্তি পাওয়া যায় ৯৮ ক্যালরি। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রামে থাকে কার্বোহাইড্রেট ৩৮.৪ গ্রাম, প্রোটিন ৬.৬ গ্রাম, ফাইবার ১.৫ গ্রাম, চর্বি ০.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ০.০৫ থেকে ০.৫৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ০.১৩ থেকে ০.২৩ মিলিগ্রাম, আয়রন ১.২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ২ মিলিগ্রাম ও পটাশিয়াম ৪.০৭ মিলিগ্রাম।
● কাঁঠালের বিচিতে আছে শর্করা যা শক্তির উৎকৃষ্ট উৎস।
● কাঁঠালের বিচিতে প্রোটিনও আছে যা কিনা মাংসপেশি গঠনে ভূমিকা রাখে।
● এটি বলিরেখা দূর করে ওবং ত্বকের বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
● কাঁঠালের বিচি খেলে চুলের আগা ফাটা সমস্যা রোধ করে ও চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।
● এতে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম কেবল হাড়ের জন্য উপকারী নয় রক্ত সংকোচন প্রক্রিয়া সমাধানেও ভূমিকা রাখে।
কাঁঠালের খোসার উপকারিতা:
● কাঁঠালের খোসা দিয়ে তৈরি করা যায় জেলি। যাতে ভিটামিন সি ও প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান পাওয়া যায়।
● কাঁঠালের খোসা দিয়ে তৈরি জেলিতে পটাশিয়াম এবং ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ উপাদানগুলো শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
● তাছাড়া এই জেলিতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন যা সেল ড্যামেজ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
লেখিকা: নাজিয়া আফরিন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মকর্তা, মানবিক সাহায্য সংস্থাা। সিনিয়র পুষ্টিবিদ (এক্স), কিংসটন হাসপাতাল
সবুজ পত্র সবুজের সমারোহে বাংলাদেশ