চলন বিল


চলন বিল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি বৃহৎ বিল। এটি নাটোর, সিরাজগঞ্জ, এবং পাবনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত। সাতচল্লিশটি নদী ও অন্যান্য জলপথ চলন বিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়। বর্তমানে বিলটিতে পলিমাটি জমার ফলে এর আকার সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। চলন বিল বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জলাভূমি অঞ্চল। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এই তিন জেলার নয়টি থানা মিলে চলন বিলের অবস্থান। নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম; সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া (আংশিক) ও নবগঠিত সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার ভাঙ্গুরা ও চাটমোহর থানা এলাকাকে বর্তমানে চলন বিল অঞ্চল নামে অভিহিত করা হয়। চলনবিলের উত্তরে বগুড়া জেলাসীমা, দক্ষিণে পাবনা জেলার আটঘরিয়া ও ইশ্বরদী থানা, পূর্বে উল্লাপাড়া সিরাজগঞ্জ রেললাইন এবং পশ্চিমে নওগাঁ জেলার আত্রাই ও রানীনগর থানা। রানীনগর থানার পারিল ইউনিয়নের রক্তদহ বিল এককালে চলনবিলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে এটি চলনবিলের উত্তর-পশ্চিম সীমা নির্দেশ করছে।

বাংলার ইতিহাসে নদীর আধিপত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল নদীগুলোর দ্বারা বাহিত পলির বিশাল অনুপাত। এটি পলি যা জমি তৈরি করেছে এবং এটিকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাসযোগ্য করে তুলেছে। পলি জমিকে উর্বর করেছে। তবে উপকারী সেই পলিও এখন বাংলার মানুষের মুখোমুখি বেশিরভাগ নদী সমস্যা তৈরি করেছে। পুরানো নদী চ্যানেলের বেডে জমা পলি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে করেছে এবং নতুন এলাকার উন্নয়নে সহায়তা করার সময় পরিত্যক্ত এলাকার জন্য সমস্যা তৈরি করেছে।

গঙ্গা নদীর পানির প্রধান আয়তন পদ্মা চ্যানেল দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে ষোড়শ শতাব্দীতে। পদ্মার পলি উত্তরবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চল গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। ১৭৮৭ সালে তার গতিপথ পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তিস্তা এই অঞ্চলে সক্রিয় ছিল। এই অঞ্চলটি সক্রিয় ছিল যখন তিস্তা ব্যবস্থার দ্বারা উত্তরে উত্থাপিত জমি এবং দক্ষিণে পদ্মার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

ভেন ডেন ব্রুকের ১৬৬০ সালের মানচিত্রে পদ্মার প্রধান চ্যানেলটি ফরিদপুর-বাখরগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত দেখানো হয়েছে। পদ্মা নদী মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হওয়ার আগে রাজশাহীর রামপুর বোয়ালিয়া , চলন বিল, ধলেশ্বরী এবং বুড়িগঙ্গার মধ্য দিয়ে চলে । তখন যমুনা কার্যত অস্তিত্বহীন ছিল এবং ব্রহ্মপুত্র তার পুরাতন চ্যানেল দিয়ে প্রবাহিত হত। গঠিত হওয়ার সময় চলনবিলের আয়তন ছিল প্রায় ১ হাজার ৮৮ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে এর আয়তন অনেক কমে এসেছে। চলনবিলের আয়তন ৫০০ বর্গমাইল বা প্রায় ১৪২৪ বর্গকিলোমিটার। আবার কোন জরিপ মতে চলনবিলের আয়তন ৮০০ বর্গমাইল বা প্রায় ২০৭২ কিলোমিটার। পূর্ব-পশ্চিমে দৈর্ঘ্য ৩২ মাইল এবং উত্তর দক্ষিণে প্রস্থ সাড়ে ২৪ মাইল। বর্তমানে চলনবিল অনেকখানি হ্রাস পেয়ে আয়তন দাঁড়িয়েছে ১১৫০ বর্গ কিলেমিটারে। শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র পাক-ভারত উপমহাদেশে চলনবিলের ন্যায় আয়তন বিশিষ্ট আর কোনো বিল আছে বলে জানা যায় না।