
পাতিকাক, পাতিকাগ বা পাতিকাউয়া কর্ভিডি গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত অতি পরিচিত একটি পাখি। পাতিকাক অত্যন্ত অজনপ্রিয় একটি পাখি। মানুষ যেসব জায়গায় প্রথম বসতি স্থাপন করে, যেমন-চরাঞ্চলে, সেসব জায়গায় পাতিকাকও মানুষের সাথে সাথে বসতি করে। এর কারণ এরা সর্বভূক আর যেকোন প্রকারে বাসা বানিয়ে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। মানুষের উচ্ছিষ্ট খেয়েই এরা জীবনধারণ করতে পারে। মানুষের সান্নিধ্যে বসবাসকারী যে ক’টি পাখি প্রজাতির বিনাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম তার মধ্যে কাক একটি। যে এলাকা যতো বেশি নোংরা, সেই এলাকায় ততো বেশি পাতিকাক। সেকারণে শহরাঞ্চলে পাতিকাক বেশি দেখা যায়।
বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, চীন, হংকং, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, আফগানিস্তান, কাতার পাতিকাকের প্রধান আবাসস্থল। এছাড়া বার্বাডোস, জিবুতি, ইরিত্রিয়া, মিশর, জিব্রাল্টার, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইসরাইল, জর্ডান, কেনিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মরিশাস, মোজাম্বিক, নেদারল্যান্ডস, ওমান, সিশেলেস, সোমালিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুদান, তাঞ্জানিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইয়েমেন ও যুক্তরাষ্ট্রে পাতিকাক অবমুক্ত করা হয়েছে। মাঝে মাঝে কম্বোডিয়া, ডেনমার্ক, জাপান, স্পেন ও যুক্তরাজ্যেও এদের দেখা যায়, এরা সম্ভবত পার্শ্ববর্তী কোন দেশ থেকে চলে আসে। চিলিতে পাতিকাক দেখা গেছে, তবে এদের উৎস সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ায় জাহাজের মাধ্যমে পাতিকাক পৌঁছেছিল ও বংশবিস্তার করেছিল, কিন্তু সেখানে এদের প্রায় নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।
সবুজ পত্র সবুজের সমারোহে বাংলাদেশ