রামধন জমিদার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। স্থানীয়দের কাছে এই বাড়িটি “ধরের বাড়ি” নামে পরিচিত। এই জমিদার বাড়ির বংশের উপাধি ছিল “ধর।” এখানে এখনো জমিদার বংশের লোকেরা বসবাস করাতে মোটামুটি জমিদার বাড়িটি এখনো প্রায় আগের মতই আছে।

এই জমিদার বংশধররা বংশ পরম্পরায় ডাবুয়া জগন্নাথ হাট, ডাবুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, চিকদাইর পুলিশ ফাঁড়িসহ রাউজান আর আর এসি মডেল হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। ব্রিটিশ শাসনামলে এই বাড়ির কর্তাদের আধিপত্য ছিল এলাকাজুড়ে। এলাকার জমিদারি ছিল বাড়িটির কর্ণধার রামধনের হাতেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নানা শ্রেণিপেশার মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকত বাড়িটিতে।
জমিদার রামধন ধর এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তারা ছিলেন দুই ভাই। আরেক ভাইয়ের নাম ছিলো রামগতি ধর। তিনিও জমিদার রামধনের সাথে জমিদারীর দেখাশুনা করতেন। তবে কখন থেকে এই জমিদার বাড়ির পথচলা শুরু হয়েছিল তা জানা যায়নি। পরবর্তীতে এই জমিদার বাড়ির জমিদারীর দায়িত্ব পড়ে জমিদার রামধনের পুত্র কেশব চন্দ্রের উপর। তিনি জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির ০২ (দুই) বছর আগে অর্থাৎ ১৯৫৫ সালের ০৬ জুন মারা যান। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এখানের জমিদারী পরিচালনা করতেন। বর্তমানে এখানের সর্বোশেষ জমিদার কেশব চন্দ্রের মেয়ে ছবি ধর তার পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। এছাড়াও এই জমিদার বংশের অন্যান্য লোকেরা চট্টগ্রাম, ঢাকার শহরে ও ভারতে বসবাস করতেছেন। এখনো বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান হলে তারা সকলে এই বাড়িতে মিলিত হন। কথিত আছে এই জমিদার বাড়ির সকল আসবাবপত্র রূপা ও স্বর্ণের তৈরি ছিল।
জমিদারদের বসবাসের জন্য বাসবভন (রামধন ভবন), দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার, কাছারি ঘর, আনন্দমহল, নাচখানা ও শিব মন্দির রয়েছে। এছাড়াও এখানে বিশাল বিশাল কয়েকটি পুকুর ও দিঘী রয়েছে।
সবুজ পত্র সবুজের সমারোহে বাংলাদেশ