
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দুটো দল পাঁচটা দল, দশটা দল ছোট-খাট দল বাংলাদেশের বিভিন্ন দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে এটা অনস্বীকার্য যে মূল বিরোধী দল যে বিএনপি তাদের সমকক্ষ ওরা নয়। এটা আমরা অস্বীকার করি না বা কেউ অস্বীকার করবে না। ওই দলটা যদি অংশগ্রহণ না করে তাহলে একটা অনিশ্চয়তা বা একটা শঙ্কা একটা অসম্পূর্ণতা থেকে যেতে পারে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
তিনি মনে করেন, নির্বাচন যদি কোন সংঘাত বা সহিংসতা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় তাহলে তারা খুশি হবেন। কিন্তু গণতান্ত্রিক চেতনার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্বাচন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনে আস্থার পরিবেশ তৈরির জন্য আগে থেকেই প্রশাসনে রদবদলের কোন পরিকল্পনা নেই। প্রশাসনে রদবদল করলেই যে বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নেবে সে নিশ্চয়তা নেই।
তবে নির্বাচনে অংশ নেবার পর বিরোধী দল যদি প্রশাসনে রদবদলের কথা বলে তাহলে সেটি বিবেচনা করবে নির্বাচন কমিশন।
কারণ হিসেবে সিইসি বলেন, আমরা এটা-সেটা রদবদল করলাম, যেটা কখনো হয়নি। তারপরও ওনারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেন না, কাজে সেটা খুব অর্থবহ প্রক্রিয়া হবে বলে আমি মনে করি না।
বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, দুবার রিফিউজড হওয়ার পরেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমি ব্যক্তিগত ডিও লেটার দিয়ে শুধুমাত্র ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব নয়, তাদের সহমর্মী যে দলগুলো, যারা নির্বাচন বর্জন করছেন, তাদের যে প্রধান তাদেরকেও চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি।
তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য এখন আর কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে কাউকে ‘অ্যাপ্রোচ করা’ কমিশনের পক্ষে আর সম্ভব হবে না। কিন্তু ওনাদের মধ্যে যদি কোনোরকম সংলাপ হয়ে থাকে প্রকাশ্যে বা গোপনে যার অধীনে ওনারা যদি সম্মত হন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে, আমরা অত্যন্ত খুশী হবো সেক্ষেত্রে।
সিইসি জানান, সংবিধান এবং গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন প্রস্তুত।
তিনি বলেন, একটা সংকট, অনাস্থা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচিত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই যে খুব মসৃণ ওয়েতে দেশ আগাচ্ছে নির্বাচনের দিকে সেটা বলা যাবে না। তবে আমাদের এখনো প্রত্যাশা মাঝে মাঝে দেখছি যে সিভিল সোসাইটি একটু উদ্যোগী হয়ে উঠেছে যে নির্বাচনটাকে ইনক্লুসিভ করতে”।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, অংশগ্রহণমূলকের এখন দুটো অর্থ দাড়িয়ে গেছে। একটি হচ্ছে ব্যাপক জনগণ যদি নির্বাচন কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তাহলে নির্বাচনটা অংশগ্রহণমূলক। আবার আরেকটি বক্তব্য হচ্ছে, সকল দল অংশগ্রহণ করলো। আবার ওটার দিকে ইংলিশটা হচ্ছে ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক। এক্ষেত্রে সমঝোতা, রাজনৈতিক সংলাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
দলীয় সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে? এ প্রশ্নের জবাব দেননি প্রধান নির্বাচন কমিশনার। পাশ কাটিয়ে বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালন করবে।
তার ভাষায়, যেটা আপনি বলেছেন, এটা হচ্ছে পলিটিকাল লিটারেচার বা পলিটিকাল ফিল্ডের কথা যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে কি হবে না। সে বিষয়ে আমরা কোনোরকম মন্তব্য করবো না।
সবুজ পত্র সবুজের সমারোহে বাংলাদেশ