
সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের বিমানের উঠেছিলো বাংলাদেশ দল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতে শুরুটাও ভালো করেছিলো টাইগাররা। তবে সময় যত গড়িয়েছে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মধ্যে যে যোজন যোজন পার্থক্য রয়েছে তা প্রমাণ করেছে সাকিববাহিনী। টানা চার ম্যাচ হেরে সেমিফাইনাল থেকে অনেকটায় ছিটকে গেছে বাংলাদেশ।
সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৪৯ রানের হেরেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার মুম্বায়ের ওয়াংখেড়ে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগারদের পাহাড় সমান ৩৮৩ রানের লক্ষ্য দেয় প্রোটিয়ারা। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এতে ১৪৯ রানের জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে প্রোটিয়ারা। ১৭৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ডি কক।
এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরু করে ছিলেন দুই প্রোটিয়া ওপেনার রেজা হেনড্রিক্স ও কুইনন্টন ডি কক। তবে ইনিংস বড় করতে পারেনি হেনড্রিক্স। ১২ রান করে আউট হন এই ডান হাতি ব্যাটার। এদিন ব্যাটে আলো ছড়াতে পারেনি ভ্যান ডের ডুসেনও। ১ রান করে ফেরেন এই মারকুটে ব্যাটার।
কিন্তু অপর প্রান্তে থিতু হন ডি কক। মারক্রামকে সঙ্গে নিয়ে ৪৭ বলে নিজের ফিফটি পূরণ করেন এই বাম হাতি ব্যাটার। দুজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে চাপ কাটিয়ে ওঠে প্রোটিয়ারা। ৬০ রান করে সাকিবের বলে ক্যাচ আউটে শিকার হন মারক্রাম।
এরপর টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাট চালাতে থাকেন হেইনরিচ ক্লাসেন ও ডি কক। ৩৪ বলে ফিফটি পূরণ করেন ক্লাসেন। অপর প্রান্তে ১২৯ বলে দেড়শত রান পূরণ করেন কক। ১৪০ বলে ১৭৪ রানের মারকুটে ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন এই প্রোটিয়া ওপেনার। শেষ দিকে পিচে এসে ব্যাটিং তাণ্ডব শুরু করেন ডেভিড মিলারও। ৪৮ বলে ৯০ রান করে ক্লাসেন আউট হলেও মিলারের ১৫ বলে ৩৪ রানের মারকুটে ইনিংসে ভর করে ৩৮২ রানের বড় পুঁজি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম পাঁচ ওভার দেখে শুনে খেললেও তা ধরে রাখতে পারেননি টাইগাররা। তানজিদ হাসান তামিম ১২ রানে আউট হলে, পরের বলেই তার দেখানো পথে হাঁটেন নাজুমল হাসান শান্ত। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি টাইগারদের ভরসার প্রতীক সাকিব আল হাসানও। সাকিবের বিদায়ের পর ৮ রান করে মুশফিক বিদায় নিলে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।
লিটনকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তবে ইনিংস বড় করতে পারেনি লিটনও, ২২ রানে টাইগার ওপেনার আউট হলে, ১১ রান করে তাকে সঙ্গ দেন মিরাজ। কিন্তু অপর প্রান্তে থিতু হন রিয়াদ।
নাসুম আহমেদ (১৯) এবং হাসান মাহমুদ ১৫ রানে আউট হলেও ১০৫ বলে নিজের সেঞ্চুরি তুলে নেন মাহমুদুল্লাহ। ১১১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন এই ডান হাতি ব্যাটার। শেষ দিকে মোস্তাফিজ ১১ রানে আউট হলে ২০ বল হাতে থাকতেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। এতে ১৪৯ রানের জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেন জেরাল্ড কোয়েটজি। মার্কো জেনসেন, কাগিসো রাবাদা, লিজাড উইলিয়ামস দুইটি করে এবং কেসব মাহারেজ এক উইকেট নেন।
সবুজ পত্র সবুজের সমারোহে বাংলাদেশ