নীলকান মাছরাঙা

নীলকান মাছরাঙা (Alcedo meninting) হল একধরনের মাছরাঙা প্রজাতির পাখি যাদেরকে সাধারণত এশিয়া মহাদেশে দেখতে পাওয়া যায়, প্রধানত এরা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া পর্যন্ত এদের বিস্তার দেখতে পাওয়া যায়। এদেরকে প্রধানত ঘন বনভূমিতে দেখতে পাওয়া যায়, সেখানে তারা ছোটো ছোটো জলপ্রপাতে শিকার ধরে। এদের শিরস্ত্রাণ আরোও ঘন হয় এবং এদের দেহের নিচের অংশ গাঢ় বাদামি রঙের হয় এবং পাতি মাছরাঙাদের (Alcedo atthis) মতোন কানের চারপাশে বাদামি রঙের দাগ থাকে না, এদেরকে লোকালয়ে বেশি দেখতে পাওয়া যায় নীলকান মাছরাঙাদের থেকে। এদের অনেক প্রকারের উপজাতির খোঁজ পাওয়া গেছে যারা প্রধানত আকার, আয়তন এবং দেহের রঙের জন্যই একে ওপরের থেকে আলাদা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মাছরাঙাদের ঠোঁটের রঙ পুরোটাই গাঢ় হয় কিন্তু মহিলাদের নিচের চোয়াল লালচে হয়।

এই ১৬ সেন্টিমিটার (৬.৩ ইঞ্চি) লম্বা মাছরাঙাটি প্রায় পাতি মাছরাঙাদের (Alcedo atthis) মতোই দেখতে হয় কিন্তু এদেরকে আলাদা করা হয় তাদের নীল রঙের কানের মাধ্যমে যা পাতি মাছরাঙাদের বাদামি রঙের হয়। এছাড়াও এদের দেহের রঙ ওই মাছরাঙাদের থেকে আরোও অনেক বেশি ঘন নীল রঙের হয় এবং দেহের নিচের অংশ অনেকবেশি গাঢ় বাদামি রঙের হয়। তরূণ নীলকান মাছরাঙাদের বাদামি রঙের কান হয় পাতি মাছরাঙাদের মতোন কিন্তু এরা তাদের বুক ও গলার ওপরে বহুবর্ণের চিত্রবিচিত্র করা চিহ্ন দেখায় যা তাদেরকে পাতি মাছরাঙাদের থেকে আলাদা করে বোঝাতে, কিন্তু পরবর্তীকালে এরা বড়ো হওয়ার সাথে সাথেই এই দাগগুলো মিলে যায়। তরুণ মাছরাঙাদের লাল রঙের ঠোঁট দেখতে পাওয়া যায় এবং এর ওপরে সাদা রঙের ছিট ছিট দাগ দেখতে পাওয়া যায়।

এদের প্রধান বিস্তার হল ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান প্রভৃতি দেশে এবং আরোও দূরের মায়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশে। এদেরকে দেখতে পাওয়া যায় পুকুর, ছোটো ছোটো জলপ্রপাত প্রভ্রিতির ধারে। আর এরা থাকতে ভালোবাসে ঘন জঙ্গলে, যে জঙ্গলগুলো প্রধানত ১,০০০ মিটার (৩,৩০০ ফু) এর নিচে অবস্থান করে।

এই নীলকান মাছরাঙা তাদের ক্ষেত্রের মধ্যে ব্যাপক ভাবে বিরাজ করে। এরা প্রধানত ঝুলন্ত গাছের ডালের ওপরে বসে থাকে এবং ওখান থেকেই শিকার করে। এদেরক শিকারের মধ্যে পরে চিংড়ি, ফড়িং, লার্ভা এবং মাছ। অন্যান্য পোকামাকড় যেমন ঘাসফড়িং, গঙ্গাফড়িং ইত্যাদিও খেয়ে থাকে।

এদের ভারতে প্রজনন কাল হল প্রধানত মে থেকে জুন মাস উত্তর ভারতে এবং দক্ষিণ ভারতে জানুয়ারি মাসে। তাদের বাসা প্রধানত ১ মিটার লম্বা হয় টানেলের মতোন দেখতে আর এরা নদীর বা পুকুর বা জলপ্রপাতের ধারেই বাসা বাঁধতে পছন্দ করে। বাসায় তারা ৫ থেকে ৭ টা ডিম পাড়ে।