পদ্ম ফুলে সেজেছে সোনাকান্ত বিল

লাল, সাদা পদ্ম ফুলে ছেয়ে গেছে পুরো সোনাকান্ত বিল। ভাসমান একেকটি পদ্মের রূপশোভা অভিভুত করে যে কাউকে। জলের উপর বিছানো সবুজ পাতা ভেদ করে উকি দিচ্ছে পদ্ম। প্রকৃতির এই অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামে সোনাকান্ত বিলে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে হাজারও পদ্মপ্রেমীরা।

স্থানীয়রা জানান, সোনাকান্ত বিলটি প্রায় ৪০ বিঘা জমি। এই বিলে উপজেলার আমডাঙ্গা, সড়াতৈল, অলিপুর ও বাগধা গ্রামবাসী বছরে একবার বোরো ধান চাষ করতে পারে। বর্ষা বছরের এই বিলে প্রায় ৬ মাসেরও বেশি সময় এখানে পানি জমে থাকে। আর এই জমিতে প্রাকৃতিকভাবে পদ্ম ফুল জন্মে। তাই বর্তমান এ বিলটি ‘সোনাকান্ত পদ্মবিল’ নামে পরিচিত পেয়েছে। পদ্ম বিলের অপরূপ এই সৌন্দর্য দেখতে আসা দর্শনার্থীরা প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যকে ফ্রেমবন্দি করে নেন।

স্থানীয় আকমাল হোসেন, খলিলুর রহমান, জুবায়েল শেখসহ অনেকেই বলেন, এলাকার নানা বয়সীরা বিলের পদ্ম ফুল তুলে আগত দর্শনার্থীসহ আশপাশের হাট-বাজারে প্রতি পিচ ৫ টাকা থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করে। প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে আসা জেলা সদরের, সাকলাই, বিপ্লব, নাজমুল, রুহুলসহ অনেকেই বলেন, সোনাকান্ত বিলের পদ্ম ফুলের সমারোহ ফেশবুকে ছবি দেখে ঘুরতে আসি, খুব ভালো লাগছে, এযেন পদ্ম বিলের দেশ। পরিবার পরিজন নিয়ে আসলে আরো ভালো লাগতো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো.শামীমুর ইসলাম জানান,বর্তমান সোনাকান্ত বিলটি সবার মন কাড়বে,পদ্ম ফুলে ঔষধি গুণাগুণও অনেক। কৃষি জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমে যাওয়ায় শাপলা ও পদ্মের দেখা মিলছে। কৃষক জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে দিলে এই ফুল বিলুপ্তির হাত থেকে ফিরে আসবে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী জানান, এটি জলজ উদ্ভিদ। পদ্ম ফুলের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। এক সময় আমাদের দেশে বিলে বিলে অনেক পদ্ম ফুল দেখা যেত। বর্তমানে বিল জলাশয় ভরাটের ফলে এই ফুল এখন বিলুপ্তির পথে। পদ্ম ফুলের বিস্তার ঘটাতে এবং এই ফুলের গুরুত্ব বিবেচনায় পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।