
পাহাড়ি তিতির বা লালগলা বাতাই ফ্যাজিয়ানিডি গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত আর্বোরোফাইলা গণের এক প্রজাতির ছোট তিতির বা বাতাই। এরা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় পাখি। আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ১৯৭৪ ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, লাওস, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম পাহাড়ি তিতিরের প্রধান আবাসস্থল। এসব দেশের চিরসবুজ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন এদের পছন্দের আবাস।
দেখতে এরা বটেরার মত, তবে বড়। পিঠ হলদে সবুজাভ ধূসর। পিঠের দিকে একটু লালচে ভাবও রয়েছে। পেট ও পার্শ্বদেশ ধূসর, রক্তিম নয়। চোখ ও পা লালচে। পিঠ আঁশের মত পালক দ্বারা আবৃত। ডানার পালকে দু’টি সাদা ও কালো গোলাকার ফোঁটার ডোরা থাকে। এছাড়া ডানার পালকে সাদা ছোট ছোট ফোঁটা দেখা যায়। গলায় একটু কালো অংশ দেখা যায় যাতে লাল ছোট ছোট ফোঁটা থাকে। চোখ কালো। চোখের চারপাশে হালকা সাদা বর্ণের মোটা দাগ থাকে। এদের দৈর্ঘ্য কমবেশি ২৭ সেন্টিমিটার।
ব্যাপকহারে আবাসন ধ্বংস ও বনাঞ্চল কেটে চাষাবাদের ফলে পাহাড়ি তিতিরের অস্তিত্ব সর্বত্রই হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া মাংসের জন্য শিকারও এদের অস্তিত্ব-ঝুঁকির অন্যতম কারণ।
সবুজ পত্র সবুজের সমারোহে বাংলাদেশ