প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর মালেশিয়া ও চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রার ঠিক ২ দিন আগে থেকে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাদা কালো পতাকা টাঙানো, নতুন রাজনীতির দোকান আযাদ পার্টির ইন্ডিয়ান হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচী ও হিন্দুরা রাম মূর্তি ইস্যুতে ঢাকায় আন্দোলন শুরু করা, এসব রেন্ডমলি ঘটছে ভাবার কোনো কারণ নেই।

তারেক রহমানের এই দুই-দেশে সফর ঘিরে কাদের মাথায় দুশ্চিন্তার ভাঁজ, তা বুঝার জন্য জানা দরকার কেন তারেক রহমান প্রথম সফর হিসেবে মালেশিয়া এবং চীনকেই বেছে নিলেন, এবং এই সফরে সিগনিফিক্যান্স আসলে কতটুকু।
গত পরশু একটা লেখাতে উল্লেখ করেছি, তারেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই প্রথম আমন্ত্রণ আসে ভারত থেকে, কিন্তু তারেক রহমান পেন্ডিং রাখে। এরপর কয়দিন আগে আবারো ভারত এপ্রোচ করে বাট প্রধানমন্ত্রী রিজেক্ট করে দেন।
মালেশিয়া এবং চীনের আমন্ত্রণ একসেপ্ট করে সমন্বয় করে এ দুই-দেশে অনেকগুলো ইম্পর্ট্যান্ট এজেন্ডা নিয়ে তারেক রহমান আগামীকালই যাত্রা করবেন।
২০২৪ সালে হাসিনার শেষ সময়ে বিভিন্ন ক্রাইমের কারণে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালেশিয়া। প্রফেসর ইউনূস চেষ্টা করেছিলেন আবার চালু করতে কিন্তু পারেন নাই। তারেক রহমান সেই কাজটি করতে পেরেছেন মাত্র ৪ মাসে, এ নিয়ে চুক্তি পাকাপোক্ত করবেন মালেশিয়া গিয়েই।
মালেশিয়ায় শুধুই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করাই নয়, এক্সটেন্ডেড করার জন্যও তিনি সমঝোতায় যাবেন সরকারের সঙ্গে।
সবচে ইম্পর্ট্যান্ট হলো, দেশের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা এস আলমের প্রকাশ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি মালেশিয়াতে। সরকার সেসব সম্পত্তি ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আইনি বিনিময়ের জন্য চুক্তিতে সাইন করবে। আগে থেকে সব সেটআপ করা।
এছাড়াও দেশের কয়েকটি খাতে মালেশিয়া বিনিয়োগ করা নিয়ে সমঝোতা ও চুক্তিতে সই হবে।
মালেশিয়া থেকে চীন সফর টেকনিক্যাল ও ভূ-রাজনৈতিক দিক দিয়ে আরো ইম্পর্ট্যান্ট। প্রায় ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সাইন হবে চীনের সঙ্গে।
সামরিক খাতকে শক্তিশালী করতে কেনাকাটা থেকে নানান প্রজেক্টে বিনিয়োগ, সবকিছু আছে এজেন্ডায়।
তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে, সেজন্য সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পানিসম্পদ মন্ত্রীকেও।
বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতির নতুন মেরুকরণ ঘটতেছে সেটা চায়নাকে ঘিরে, যা ইন্ডিয়ার জন্য বড় মাথাব্যথা কারণ।
দেশের বিনিয়োগ সংস্থার প্রথম বিদেশ অফিস খোলা হচ্ছে, সেটা চায়নাতেই। ফলে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।
সফরের দ্বিতীয় দিন আশিক চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমান বসবেন চীনের চায়নাট্যাক্স, চেরি গ্রুপ ও হানদাসহ শীর্ষ ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে।
আছে দুই-দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর মিটিং।
মাত্র ২ দিন আগে ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করে একনেকে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার ‘চীনা অর্থনৈতিক প্রকল্প’ পাস করা হয়েছে।
ফলে, তারেক রহমানের প্রথম চায়না সফর ঘিরে ঘুম হারাম ইন্ডিয়ার। এদেশে তাদের হয়ে খেলা আওয়ামী এবং জাতীয় পার্টি দুইটায় এখন দেশের মাটিতে ইনভ্যালিড। ফলে ইন্ডিয়া এখন তার প্রক্সি টুলগুলো মাঠে নামিয়ে শেষ চেষ্টা চালাবে বাংলাদেশের জন্য তারেক রহমানের এ সিগনিফিক্যান্স চীন সফরকে ভেস্তে দিতে।
আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ট্র্যাপে পা দেওয়া যাবে না।
সবুজ পত্র সবুজের সমারোহে বাংলাদেশ