দাউদ ইব্রাহিম কি মারা গেছেন ?

দাউদ কি মারা গেছে, ‘করাচির হাসপাতাল থেকে গোরস্তানের পথে কফিন’, নাকি নিছক রটনা

কুখ্যাত মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম কি মারা গেছে? রবিবার রাত থেকে দাবানলের মতো ছড়িয়েছে এই জল্পনা। পাকিস্তানের সীমান্ত অতিক্রম করে এই জল্পনা বিদেশী সংবাদমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সোশাল মিডিয়ায় তা এখন ট্রেন্ডিং টপিক।

রবিবার রাতে এই খবর ছড়ায় যে দাউদকে কেউ বা কারা বিষ খাইয়ে দিয়েছে। তাকে ভর্তি করা হয়েছে করাচির হাসপাতালে। দুদিন ধরে করাচির ওই হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষছে ওই মাফিয়া। ওই হাসপাতালের ফ্লোরটিতে একমাত্র দাউদকেই রাখা হয়েছে। আর গোটা ফ্লোর আগলে রেখেছে পাক নিরাপত্তা বাহিনী।

আবার সোমবার দুপুর ১২টা থেকে এই রটনা চলছে যে করাচির হাসপাতাল থেকে কফিন বন্দি একটি দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে কাছেই গোরস্তানে।

দাউদের শারীরিক অবস্থা কেমন তা জানা যায়নি। তা জানা সহজও নয়। কারণ, ইসলামাবাদ কখনও তা সরকারি ভাবে স্বীকার করে না। তবে হ্যাঁ, ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে বারবার দাবি করা হয়েছে, করাচির অভিজাত পাড়ায় সপরিবারে থাকে দাউদ। সেখানে পাক প্রতিরক্ষা বাহিনী তাকে সুরক্ষা দিয়ে রেখেছে। এও জানা যায় যে পাকিস্তানে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে এই মাফিয়া ডন। তার স্ত্রীর নাম মেহজবিন। তার তিন মেয়ে। এক মেয়ে মাহরুখের বিয়ে হয়েছে প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার জাভেদ মিঁয়াদাদের ছেলের সঙ্গে।

আসলে দাউদের ঠিকানা ও তার গতিবিধি নিয়ে গত প্রায় তিরিশ বছরে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। বরং বার বার তার মৃত্যুর খবর রটেছে। কখনও রটেছে যে দাউদ এইডসে আক্রান্ত, কখনও কলেরায়, কখনও টাইফয়েডে, কখনও বা কোভিডে। কোনটা মানুষ বিশ্বাস করবে সেটাই সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, দাউদ ইব্রাহিমকে নিয়ে আসল যেটা বিষয় তা হল, গত ত্রিশ বছরে ভারত তাকে দেশে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। ভারত প্রত্যার্পণ করাতে পারেনি। এর মধ্যে ১৩ বছর কংগ্রেস কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল। ১৫ বছর কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বে সরকার চলেছে। আর মাঝে দু’বছর অবিজেপি-অকংগ্রেসি সরকার চলেছে।

মুম্বইতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ১০ বছর পর ২০০৩ সালে দাউদকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করে আমেরিকা। তাঁর খোঁজ দেওয়া জন্য আড়াই মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ২০৭ কোটি টাকা।