ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি


পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশের পররাষ্ট্র নীতি এবং আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মধ্যে বিরোধ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। কৃষক ও শ্রমিকদের উপর প্রভাব বিস্তারকারী জননেতা ভাসানী এ সময় এইচ.এম সোহরাওয়ার্দীকে তাঁর আমেরিকাপন্থী পররাষ্ট্র নীতি এবং পূর্ববঙ্গের স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি সমর্থন দানের ক্ষেত্রে উদাসীনতার জন্য দায়ী করেন। এই মতবিরোধ অবশেষে আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি ভাঙন সৃষ্টি করে এবং ১৯৫৭ সালের ২৫-২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আওয়ামী লীগের মধ্যকার বামধারার মনোভাবসম্পন্ন নেতা-কর্মীদের সমর্থন নিয়ে মওলানা ভাসানী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। ভাসানী নবগঠিত এই দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। দলটি গঠন করার অব্যবহিত পরে এবং এরপর ১৯৬৪ সালের মার্চ মাসে পুনরুজ্জীবনের পর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাম রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। তবে চীন-সোভিয়েত বিরোধের কারণে ১৯৬৭ সালে দলটি ন্যাপ (ভাসানী) এবং মস্কোপন্থী ন্যাপ (ওয়ালী) এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন চীনপন্থী দলের বিপরীতে মস্কোপন্থী ন্যাপ সাবেক পশ্চিম পাকিস্তানে শক্তিশালী ছিল। মওলানা ভাসানী একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে তাঁর দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগের বিরোধিতাকারী সর্বপ্রথম দলও ছিল এটি। কিন্তু ১৯৮৮ সালে এ দলটি ১৩টি পৃথক পৃথক দল এবং উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মস্কোপন্থী ন্যাপও অনুরূপভাবে ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশক জুড়ে একটি ভাঙন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কমপক্ষে ৫টি দল এবং উপদলে বিভক্ত হয়।