বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সত্তরের দশকের শেষদিকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য প্রাপ্ত একটি দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দল দুই-তৃতীয়াংশেরও অধিক আসনে জয়ী হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বেশ কিছুসংখ্যক নেতা এতে যোগ দিলে দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে সংঘটিত অপর একটি সেনা অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরী প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারও ক্ষমতাচ্যুত হন।

নেতৃত্বের প্রশ্নে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যখন বিএনপি (সাত্তার), বিএনপি (হুদা) এবং বিএনপি (দুদু) এই তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় তখন এটি সংকটের মুখে পড়ে। পরবর্তীকালে বিএনপি দুদু গ্রুপ প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল নামে পৃথক একটি রাজনৈতিক দলরূপে আবির্ভূত হয়। জেনারেল এরশাদ রাজনৈতিক কর্মকান্ড অবারিত এবং নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করলে বিএনপি হুদা গ্রুপের নেতা শামসুল হুদা চৌধুরী তাঁর অনুসারীদের নিয়ে জনদলে যোগ দেন। অপরদিকে বিএনপি সাত্তার গ্রুপ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নিজেদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে মতপার্থক্যের কারণে শাহ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে অপর একটি ক্ষুদ্র অংশ এ দলটি ত্যাগ করে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সুসংহত হয় এবং আশির দশকের শেষদিকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৮৮টি আসনের বিপরীতে এই দল ১৪০টি আসন লাভ করে। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি ১১৬টি আসন লাভ করেছিল। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সংসদের দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।