রাসেল ভাইপারে উদ্বিগ্ন পদ্মা পাড়ের মানুষ


যে কারণে সারাদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার। ডক্টর মোহাম্মদ ফরিদ আহসানের (প্রাণীবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) এর মতে রাসেল ভাইপার সাপকে যদি আমরা পুরাতন দৃষ্টিতে দেখি তাতে দেখা যায় যে তারা বরেন্দ্র এলাকার দিকেই বেশি ছিল। ফিরে আসার যে কারণগুলো, বরেন্দ্র এলাকায় আগে এক ধরণের ফসল চাষ করা হত। সূএ: বিবিসি বাংলা

এক ধরণের ফসল চাষ হওয়াতে অন্য সময়টায় মাঠ খালি থাকতো তাই এদের খাবার অভাব হতো। এদের খাবার মুলত ইঁদুর। এখন ফসল যখন একাধিক হওয়া শুরু হলো, তখন ফসলের খেতে ইঁদুর পরিমাণ ও বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত ইঁদুর পাওয়ার ফলে এদের রিপ্রোডাকশন বেড়ে যায়। এ সাপগুলো কিন্তু ডিম দেয় না, সরাসরি বাচ্চা দেয়। বাচ্চা সরাসরি দেওয়ার ফলে এদের রিপ্রডাকশন রেট হাই হয় এবং বাচ্চাগুলো দেখা যায় পানিতে গেলে কচুরিপানা থাকলে এরা তার নিচে আশ্রয় নেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই সাপের দংশনের শিকার হচ্ছে অনেকে। সব থেকে বেশি শিকার হচ্ছে কৃষকরা। কুষ্টিয়ার গড়াই নদী ও পদ্মা অববাহিকায় গত আট মাসে সাতটি ‘রাসেল ভাইপার’ বা চন্দ্রবোড়া সাপ পাওয়া যায়। গ্রামবাসীর মতে তারা ঘরে থাকতে বা নদীতে গোসল করতে যেতে ভয় পাচ্ছে। বর্ষা এলে নদীর পানি যখন বেড়ে যায় তখন বেড়ে যায় বিভিন্ন সাপের উৎপাত।

তার মধ্যে এ সাপের কারণে ছড়িয়ে পরছে নতুন করে আতংক। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পরেছে। কোথা থেকে আসছে এত রাসেল ভাইপার? এ রাসেল ভাইপার ভারতে রয়েছে। এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ বর্ডারের দিকে মালদা জেলায় যে ঝোপঝার গুলো আছে তা এখন পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তাই সাপ গুলো বেড়িয়ে বৃষ্টির স্রোতেই এরা ভেসে আসে। এবং পদ্মার ওই পাড়ে যে চর রয়েছে গভারমেন্ট ত্রর যে প্রজেক্ট চলছে সেইখানে তাদের একটি বড় আশ্রয়স্থল।

এরা ভাল সাঁতারও কাটতে পারে যদিও এরা মাটিতে বাস করে। পদ্মা অববাহিকায় যে সমস্ত নদী বা শাখা নদী গুলো আছে তা ধরে ত্রটি এখন পটুয়াখালি পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। এই সাপের দংশন কতটা ভয়ঙ্কর? ডাক্তার মোহাম্মদ ফরিদের মতে ত্রই সাপের বিষের তীব্রতা এতই ভয়াবহ যে আমাদের শরীরের রক্ত জমাট বাধাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এ সাপটি যে জায়গায় কামড় দেয় তার ঠিক পাশ দিয়ে রক্ত পড়ে অনেক সময় নাক,মুখ গলা বা মলদার দিয়ে ও রক্ত বেড় হয়। ত্রই মুহুর্তে ত্রই সাপের কোন এ্যান্টিভেনম নেই বাংলাদেশে। চিকিৎসকরা খুবই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে, তারা গাম বুট পরে কাজর নির্দেশনাও দিচ্ছে।