গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর (কোমরপুর) গ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে ইতোমধ্যে ২৮ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তি এবং ৫৩ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে দেশের সবচেয়ে বড় রামমূর্তি নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এসব স্থাপনার মধ্যে কয়েকটি দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় মূর্তির তালিকায় স্থান পেতে পারে। তবে প্রকল্পটির আকার, ব্যয় এবং অর্থায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মন্দির, মূর্তি এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আরো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন মহলে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো সরকারি তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছিল।
সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান প্রকল্পের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। এত বড় প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস কী? সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন কি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় রয়েছে? বৃহৎ আকারের ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য কী? বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করেছে। যে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায় তাদের উপাসনালয় নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করতে পারে। তবে যখন কোনো প্রকল্পে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের দাবি ওঠে এবং তার উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়, তখন জনস্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সামাজিক মহল সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রকল্পটির অর্থায়ন, সম্পদের উৎস ও আর্থিক স্বচ্ছতা বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জনমতের প্রশ্ন একটাই পলাশবাড়ীর এই বৃহৎ ধর্মীয় প্রকল্পের প্রকৃত অর্থায়ন, উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে কি না।
উল্লেখ্য, এ মন্দিরটি ২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।
সবুজ পত্র সবুজের সমারোহে বাংলাদেশ